জিহাদ কি ও কেন ???

“( হে ঈমানদারগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো ঠিক যেভাবে জিহাদ করা উচিত।”- (সূরা হজ্জব-৭৮)।

# ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় জিহাদ #

জিহাদ শব্দের অর্থ চেষ্টা বা সাধনা করা। জিহাদ মানেই মারামারি বা রক্ত নিয়ে হোলি খেলা নয়। ইসলামী শরীয়তে জিহাদের পরিভাষিক অর্থ হলো দ্বীন কায়েম বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা তথা ইসলামী সমাহ ব্যবস্থার জন্য নিরলস চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল্ভাবে আন্দোলন বা সংগ্রাম করা এবং পর্যায়ক্রমে আন্দোলনকে চুড়ান্ত বিজয়ে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনে সশস্ত্র যুদ্ধ করা। ইসলামী শরীয়তের উছুল বা মূল নীতিগুলোর মধ্যে এটাও একটি মূলনীতি, যে কাজটি ফরয তার পূর্ব প্রস্তুতিও ফরয। সুতারাং দ্বীন তথা ইসলামী সমাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেমন ফরয তেমনি তার পূর্ব প্রস্তুতি অর্থাৎ তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে চেষ্টা সাধনা, আন্দোলন সংগ্রাম এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র জিহাদ করা ফরয।

“( হে ঈমানদারগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো ঠিক যেভাবে জিহাদ করা উচিত।”- (সূরা হজ্জব-৭৮)।

“( হে ঈমানদার লোকেরা!) তোমরা তাদের (দ্বীন দ্রোহীদের) বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতক্ষণ না ফেতনা ও সকল বিপর্যয় শেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন (শাসন) পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়।”- (সূরা আনফালঃ-৩৯)।

হযরত আবু গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (দঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (দঃ)! কোন আমলটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম?

“রাসূল (দঃ) বললেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা।”- (বুখারী, মুসলিম)।

তবে জিহাদের প্রকার এবং পদ্ধতি স্থান ও কালভেদে বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। যেমনঃ ১. মুখের দ্বারা জিহাদ করা যায়। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের প্রশ্নের জবাব দেয়া, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তার কথা খন্ডন করা, বক্তৃতা দ্বারা তাকে ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।
২. কলম বা লেখনীর মাধ্যমে অনৈসলামিক মতবাদের মোকাবিলায় ইসলামী দর্শন ও বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ইসলাম সম্পর্কে জাহেলী ও ভুল ধারণার অপনোদন করা।
৩. মাল সম্পদ খরচ করে সংগ্রাম বা আন্দোলন করা কিংবা মুজাহিদের প্রয়োজনীয় রসদ, সাজ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা।
৪. সশরীরে সশস্ত্র জিহাদে শরীক হওয়া। এ প্রসঙ্গে রাসূল (দঃ) বলেছেনঃ- “তোমাদের জান, মাল ও মুখের ভাষা দ্বারা তোমরা মুশরিকদের সঙ্গে জিহাদ কর।”- (আবু দাউদ, নাসাঈ, দায়েমী)।

Create your website at WordPress.com
Get started